গুগল ট্যাগ ম্যানেজারের মাধ্যমে ফেসবুক পিক্সেল সেটআপ

আমরা যদি কনভারশন campaign করতে চাই, ক্যাটালগ ছাড়তে চাই/স্টোর campaign ছাড়তে চাই-এই টাইপের campaign-এর জন্য আমাদের দরকার পড়বে ফেসবুক পিক্সেল সেটআপ। এখন কথা হচ্ছে, আমরা এটা কেন করবো?

আমরা এটা এজন্য করবো, ধরেন-আমরা যদি একটা ডেমো ই-কমার্সের সাইটের কথাই বলি- এর ক্যাটাগরির আন্ডারে অনেকগুলো প্রোডাক্ট থাকে, এর সাথে প্রাইস রেঞ্জ, সার্চ-এরকম মাল্টিপল কিছু অপশন দেখা যায়। তো, মেইনলি আমাদের টার্গেট হচ্ছে- প্রোডাক্ট সেল করা। আর সেল মানেই হচ্ছে কনভারশন। আর কনভারশন করার জন্য সাইটে পিক্সেল সেটআপ করতে হবে।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে, পিক্সেলটা আসলে কি?

পিক্সেল হলো ফেসবুকের একটা কোড স্নিপেড, যেটা ফেসবুকের এড অ্যাকাউন্ট থেকে দেয়া হয়, ঐ এড অ্যাকাউন্টের কোড আমরা ওয়েবসাইটে এনে বসাবো। তো আমার টার্গেট হলো-কেউ যদি এড টু কার্টে ক্লিক করে, আমি তাকে ট্র্যাক করবো। আবার, যখন কেউ কোনো ক্যাটাগরিতে আসে, ধরেন যে, অর্গানিক একটা ক্যাটাগরি-তো এই ক্যাটাগরিতে কতগুলো পিপল এসেছে আমি তাদেরকে ট্র্যাক করবো।

একটা ই-কমার্স সাইটে কতগুলো স্টেপ থাকে?

ধরেন, একজন ট্রাফিক সাইটের হোমপেজে আসলো। তারপর ট্রাফিক কি করবে-একটা ক্যাটাগরিতে আসবে, এরপর সে একটা প্রোডাক্টে যাবে। তারপর ওখান থেকে প্রোডাক্টটা কিনবো, তার মানে আমরা এড টু কার্ট করবো।  এড টু কার্ট-এ ক্লিক করলে নতুন একটা পেজ ওপেন হবে। তখন দেখা যাবে যে, প্রোডাক্টটা আমার এড টু কার্ট-এ চলে গেছে। এখন আমি ভাবলাম যে, প্রোডাক্টটা আমি পারচেস করবো, তো পারচেস করতে হলে আমাকে proceed to checkout-এ ক্লিক করতে হবে। তাহলে আমার কয়টা স্টেপ হলো- হোমপেজ, প্রোডাক্ট পেজ, ক্যাটাগরি পেজ, কার্ট পেজ আর চেকআউট পেজ-টোটাল ৫টা। এখন আমি প্রোডাক্টটা কিনবো। এখন অটোফিল কিছু অপশন আসবে, সেগুলো অ্যাড করে নিব। এরপর টার্মস এন্ড কন্ডিশন অপশন সিলেক্ট করে নিয়ে ক্যাশ অন ডিলেভারি তে ক্লিক করে অর্ডারটা প্লেস করে নিব।তারপর একটা ইউআরএল আসবে। তারপর দেখা যাবে, প্রোডাক্টটা কেনা হয়ে গেছে। তো ইউআরএল আসা পর্যন্ত টোটাল ৬টা স্টেপ।

এখন আমরা যদি একজন ইউজারের জার্নি নিয়ে কথা বলি- একজন ইউজার যদি ওয়েবসাইটে আসে, সেটা অনেক রকমেরই হতে পারে যেমন- সেটা ব্লগ সাইট হতে পারে, সেটা নরমাল ই-কমার্স সাইট হতে পারে, একটা ট্রেনিং সাইট হতে পারে, একটা কর্পোরেট সাইট হতে পারে, একটা নিউজ সাইট হতে পারে। জার্নিটা কোথায় কোথায় হয়? যেমন উপরে আমরা দেখলাম যে, একটা ই-কমার্স সাইটের মূলত ৬টা স্টেপ। এটা কম-বেশী হতে পারে, যেটা ডিপেন্ড করে ওয়েবসাইট টু ওয়েবসাইট। একটা কথা মনে রাখতে হবে যে, যত বেশী স্টেপ হবে, অডিয়েন্স তত বেশী বিরক্ত হবে। তো একজন ইউজারের জার্নিতে আমরা দেখতে পাই-

প্রোডাক্ট পেজ>কার্ট পেজ>চেকআউট পেজ>পেমেন্ট ইনফো>থ্যাঙ্কিউ পেজ

এছাড়া আর কি কি এক্টিভিটিজ একজন অডিয়েন্স করতে পারে?

যে ওয়েবসাইটটাতে আসলো, সে প্রোডাক্টটা দেখলো, দেখার পর তার ভালো লাগছে কিন্তু এখন কিনবে না। তখন সে কি করবে? add to wishlist-নামে যে বাটনটা, এই বাটনে সে প্রেস করবে। যখন সে প্রেস করবে, তার মানে add to wishlist-এ একটা প্রোডাক্ট চলে যাবে। তো এটাতেও কিন্তু আমার একটা ট্র্যাকিং থাকা উচিত। তো এখানে আমি একটা এক্সট্রা পেজ পাবো। এক্সট্রা পেজে আর কি কি হতে পারে? কোনো অডিয়েন্স এসে আমার ওয়েবসাইটে সার্চ করলো, যার ফলে সার্চের জন্য একটা পেজ থাকতে পারে। এছাড়া অ্যাকাউন্ট করতে পারে, প্রোডাক্ট ফিল্টারিং করতে পারে, কন্টাক্ট পেজে যেতে পারে। অন্যদিকে, টাইম একটা ম্যাটার হতে পারে।

তো আমি এমন একটা রুল তৈরী করবো যে ঐ সমস্ত ব্যক্তি যারা গত ৩০ দিনে আমার কার্টে আসছে কিন্তু কোনো প্রোডাক্ট কিনে নি। এর জন্য আমি রিমার্কেটিং গোল তৈরী করবো এবং ট্রাফিক ডেটা দিয়ে আমি এড ছাড়বো। যারা কার্টে আসে, তাদের তো ইন্টেনশন আছে। ইন্টেনশন যেহেতু আছে, এডটা আমি যদি ১০০০পিপলের কাছে ছাড়ি, টোটাল যে সেলটা আসে, ওটাই তো আমার অপ্টিমাল কাস্টমার এবং এখানে এডের কস্ট ডেফিনিটলি কম আসে। কেন? কারণ এখানে অনেক টার্গেটেড এবং অলরেডি তারা আমার ফানেলের মধ্যে আসছে। আবার, এমনো হতে পারে, যারা উইসলিস্ট করে রাখছে কিন্তু কিনে নি, তাহলে উইসলিস্টে যারা আছে ধরেন, এমন ২০০০-৩০০০পিপল আছে তাদেরকে টার্গেট করতে পারবো-তও এটাই হচ্ছে পিক্সেলের কারসাজি।

এখন আমি এড অ্যাকাউন্ট থেকে এড ম্যানেজারে ক্লিক করলাম। এখানে একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে যে, আমি যে অ্যাকাউন্টে এড দিবো, সেই অ্যাকাউন্টের একটা পিক্সেল আছে। প্রত্যেকটা এড অ্যাকাউন্টের একটা ইউনিক পিক্সেল থাকে। পিক্সেল মানে small amount of javascript code-যে পিক্সেল কোডটা আপনার ওয়েবসাইটে বসবে। কোন ওয়েবসাইটে বসবে? যে ওয়েবসাইটে আপনি ট্রাফিক ট্র্যাক করাতে চান সেটাতে বসবে। এখন যদি কারো ১০টা ওয়েবসাইট থাকে, তাহলে একই এড অ্যাকাউন্ট থেকে পিক্সেল ১০টা ওয়েবসাইটে বসবে।

কিন্তু গুগল ট্যাগ ম্যানেজারের সেটআপটা ভিন্ন হবে। ফেসবুক পিক্সেলটা কোথায় পাবো? প্রত্যেকটা এড অ্যাকাউন্টের একটা নির্দিষ্ট পিক্সেল থাকে। আগে যেটা পিক্সেল নামে ছিল, এখন সেটা ইভেন্টস ম্যানেজার হয়ে গেছে। তো আমাদেরকে পিক্সেল পাওয়ার জন্য ইভেন্টস ম্যানেজারে যেতে হবে। এখানে আসার পর প্রথমেই আপনার এড অ্যাকাউন্টটা চেক করে নিবেন, যে আপনি যে অ্যাকাউন্টে পেমেন্ট ম্যাথেড এড  করছেন, যেটা দিয়ে কাজ করতে চান, সেতা সিলেক্ট করা আছে কিনা। এরপর কতগুলো মাল্টিপল অপশন দিবে। তো আমরা ওয়েবসাইট ট্রাফিক ট্যাক করতে চাই, যদি আমি অ্যাপসের ডেটা ট্র্যাক করতে চাই, সেটারো অপশন আছে। আবার আমি যদি অফলাইন ইভেন্টে ট্র্যাক করতে চাই সেই অপশনও আছে।

তো আমাদের কাজ মূলত ফেসবুক পিক্সেল নিয়ে। প্রথমেই আমরা get started-বাটনে ক্লিক করবো। সেখানে গেলে একটা পিক্সেল নাম চাবে এবং ওয়েবসাইটের ইউআরএল চাবে-এগুলো ফিল-আপ করা হয়ে গেলে ক্রিয়েট বাটলে ক্লিক করলে পিক্সেলটা জেনারেট হবে। এরপর ফেসবুক আমাকে অপশন দিবে যে আপনি কি ওয়েবসাইটের ওয়ার্ডপ্রেসের সাথে এই পিক্সেলটাকে কানেক্ট করতে চান নাকি ম্যানুয়ালি সেটআপ করতে চান? আপনি যদি ওয়ার্ডপ্রেসের সাথে কানেক্ট করে দেন তাহলে আপনি কিছু শিখতে পারবেন না। কেন শিখতে পারবেন না? আপনি যখন আপনার সব ক্লায়েন্টের কাজ করবেন, সব ক্লায়েন্টের তো আর ওয়ার্ডপ্রেস থাকবে না এটা স্বাভাবিক। অনেকের হয়তো দেখা যাবে পিএইচপি ওয়েবসাইট আছে, আবার কারো শপিফাই ওয়েবসাইট আছে-তাদের ওয়েবসাইটে কিভাবে কাজ করবেন? এর জন্য আমাদের কাছে বেস্ট অপশন হচ্ছে ম্যানুয়াল সেটআপ। এখন ওভারভিউ অপশন থেকে সেটআপ পিক্সেল নামে অপশনে ক্লিক করলে ইন্সটল পিক্সেলে ক্লিক করলে আবার সেই ম্যানুয়ালি সেটআপ অপশন দিবে। সেখানে গেলে ২টা অপশন আমাদেরকে দিবে-একটা হচ্ছে ইন্সটল পিক্সেল আর একটা সেটআপ ইভেন্টস। ফেসবুক পিক্সেল মূলত ৩ ধরনের কোড বেয়ার করে-বেস কোড, স্ট্যান্ডার্ড ইভেন্ট কোড, কাস্টম ইভেন্ট কোড। ফেসবুক পিক্সেল আমাদেরকে ৩ ধরনের এক্টিভিটিজ করতে দেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published.