ফেসবুক এডস-এর ৬ মাসের প্ল্যান

একটা বিজনেস যখন অনলাইনে আসে, একটা বিজনেসের প্ল্যান আমরা কিভাবে রেডি করি? একেবারে স্টার্টিং-এ অনলাইনে আসছে তার ফেসবুক পার্টটা কিভাবে হতে পারে?

ধরেন যে, একটা ফ্লাওয়ার শপ মেইন টাউনে স্টার্ট হয়েছে। একটা বিজনেস প্যাটার্ন হচ্ছে ফ্লাওয়ার শপ। তো ফ্লাওয়ার শপে কি করে? ফ্লাওয়ার সেল করে ডেফিনিটলি, যেটার নিজস্ব লোকাল শপ আছে এবং তারা অনলাইনে সেল করতে চায় এই প্রোডাক্টটা। তারা ওয়েবসাইটও লঞ্চ করছে, তাদের টার্গেট হলো নেক্সট ৬ মাসে তাদের কোনো প্রফিট দরকার নাই কিন্তু রেভিনিউ আরওআই(ROI) যেন এটলিস্ট মিট করে। যেটা খরচ করতেছে সেটা যেন উঠে আসে এতটুকুই কন্সার্ন প্রথম ৬ মাসে। তো ৬ মাসের প্ল্যান আসলে কিভাবে হতে পারে?

আমরা যদি একটু চিন্তা করি, একটা ব্রান্ড/ একটা নতুন ক্যাটাগরি/ একটা প্রোডাক্ট যখন লঞ্চ হয় তখন আমরা প্ল্যানিংটা এভাবে করতে পারি-

  • ১ম ধাপে ২ সপ্তাহে পেজ লাইকে campaign করতে পারি। তো মিনিমাম আমি এখানে ১ লাখ লাইক আনতে পারবো। তবে লাইক কেনা কিন্তু এই মুহূর্তে কোনো ভালো সমাধান না। আপনারা ভালো করেই জানেন যে, আগে লাইক একটা সুবিধা হতো, আমি পোস্ট দিলে আমার পোস্টটা যারা লাইক দিয়ে রাখছে তাদের কাছে অটো চলে যেত অর্গানিকালি। তবে ফেসবুক তো অর্গানিকালি এখন বন্ধ করে দিসে। ম্যাক্সিমাম ১০০-২০০ রিচ হবে ১ লাখ পিপলের কাছে। এর বাইরে আর পাবে না। কিন্তু এতো বেশি লাইক নেওয়ার কারণটা হচ্ছে যখন অনলাইনে প্রোডাক্ট সেল করতে চাবেন, মানুষ বেসিক্যালি কিছু জিনিস দেখে প্রোডাক্ট নেয়ার ক্ষেত্রে, একটা হচ্ছে পেজের অবস্থাটা কি? পেজটার লাইক কেমন? কোনো রিভিউ আছে কিনা, রিভিউ থাকলে কত রেটিংস আছে, মানুষের কোনো রিকামেন্ডেশন আছে কিনা-এসব বিষয় মানুষ চেক করে। সুতরাং, এটা কিন্তু একটা প্যারামিটার, প্রোডাক্ট কেনার আগে। এজন্য আমরা কোনো ব্রান্ড শুরু করার আগে পেজ লাইক বাড়িয়ে নেই।
  •  ২য় ধাপে ২ সপ্তাহে রিচের একটা campaign করতে পারি এবং ইম্প্রেশনের। তো ১ম সপ্তাহে রিচ যত মানুষের কাছে পৌছানো যায়, পরের সপ্তাহে ইম্প্রেশন, ইম্প্রেশন হলো যারা দেখছে, তাদেরকে আবার এডটা বারবার পৌছায় দিতে পারি।
  • ৩য় ধাপে আমরা পোস্ট দিতে থাকলাম। ঐ ১মাস ধরে প্রতিদিন/ ২দিন পর পর ১টা ২টা করে/ ৩দিন পর পর ১টা করে পোস্ট দিতে থাকলাম। মাসে ধরেন ১২টা পোস্টের জন্য আবার এংগেজম্যান্ট এড চালালাম। এতে করে কি হবে? পিপল আমার পেজের সাথে এংগেজ হচ্ছে।
  • ৪র্থ ধাপে
  • ৫ম ধাপে আমরা ট্রাফিক এড চালাতে পারি। ট্রাফিক এড কি করবে? ওয়েবসাইটে ট্রাফিক ভিসিট করাচ্ছে। তার মানে বিভিন্ন টাইপের প্রোডাক্ট যেমন ফুলের বিভিন্ন প্রোডাক্ট, গিফট প্যাক-সেগুলো দেখছে। এছাড়াও ইভেন্ট এবং লিড campaign করতে পারি।
  • তো ৫-৬ মাস যখন যাবে, অখন আমরা ডিরেক্ট টার্গেট করবো যে, কিভাবে অনলাইন থেকে অর্ডারটা নেয়া যায়। তখন আমরা কনভার্সন এড যেটা ক্যাটালগ এড/ডায়নামিক্যালি যেটা বোঝানো যায়, সেটা আমরা করতে পারি।

তো এভাবে অ্যাকচুয়ালি একটা প্ল্যান করা যেতে পারে একটা ব্রান্ডের জন্য। যখন কোনো ব্রান্ড অনলাইনে আসে যেমন ফেসবুক এবং যার লোকাল মার্কেটার টার্গেটার প্রোডাক্ট সেল হয়, একি সাথে তার অনলাইনেও প্রোডাক্ট সেল হয়। এখানে আরো একটা এড যেতে পারে, যেহেতু তার লোকাল শপ আছে, তো তার স্টোর ভিসিট এডটাও চলতে পারে এখানে, এমনকি ক্যাটালগ এডটাও চলতে পারে।

এই হচ্ছে ওভারঅল একটা বেসিক প্ল্যান। এভাবে হয়তো আমরা চিন্তাটা করতে পারি। যদিও আরো এক্সটিন্সিভ ডিফারেন্ট কিছু অ্যাড হয়। কস্টিং-এর একটা বাজেট থাকে যে, প্রতিটা লাইকের জন্য কেমন খরচ পড়বে? প্রতিটা রিচের জন্য কেমন খরচ পড়বে? প্রতিটা ইম্প্রেশনের জন্য কেমন খরচ পড়বে? এরকম একটা ভ্যালু এখানে অ্যাড করা হয়। আইডিয়া করা যায় যে, এই মূহুর্তে বাংলাদেশে পেজ লাইক কস্ট ০.৮০-১.২০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। এটা যদিও পেজ টু পেজ ভ্যারি করে, যদি আপনার এন্টারটেনমেন্ট রিলিভেন্ট অ্যাড হয় তাহলে দেখবেন যে আরো কমে পাচ্ছেন। আর যদি কোনো ব্রান্ড রিলিভেন্ট হয় তাহলে ১.২০ টাকা পার লাইকের জন্য। আবার যদি রিচ campaign করেন, তাহলে সিপিআর(CPR-Cost per reach)- এটার কস্ট আপনার ০.০১-০.০৭ পয়সা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। এটাকে বলে কস্ট পার রিচ। আর অন্যান্য সেলের আসলে এটা কখনো ভ্যালু হয়না, এটা কখনো বলা যায়না যে পার সেলে কত টাকা খরচ হয়। এটা তো প্রোডাক্ট টু প্রোডাক্ট ভ্যারি করবে। এটা কোনো স্ট্যান্ডার্ট রুল নয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published.