ফেসবুক এডস রিপোর্টিং ও ডেটা এনালাইসিস

কি টাইপের ডাটাগুলো আমাদের অ্যাকচুয়ালি এনালাইজ করতে হয়?

যেকোনো টাইপের মিডিয়া বাইয়িং, মিডিয়া বাইয়িং বলতে ফেসবুকের এড, গুগলের এড, ইন্সটাগ্রামের এড-এই টাইপের এডগুলো যে আমরা দিচ্ছি তো এই এডগুলো এখন কতটা পারফেক্ট হচ্ছে, এগুলো আমাদের যে গোল সেগুলো মিট করতেছে কিনা, তারপর আমি যেটা চাচ্ছি সে পরিমাণ রেজাল্ট আসতেছে কিনা- তো অনেকগুলো ব্যাপার এখানে চলে আসতেছে। আমি এটাকে একটা টার্ম বলেছিলাম এবি টেস্টিং/স্লিভ টেস্টিং। এবি টেস্টিং বলতে আমি মাল্টিপল টাইপের এড ছাড়বো -১-২টা হতে পারে, মাল্টিপল হতে পারে, ডিফারেন্ট-ডিফারেন্ট গ্রুপ, ডিফারেন্ট টার্গেটিং-এভাবে আমি এড ছাড়বো। যেটা ভালো পারফর্ম করবে, সেটা নিয়ে আমি কন্টিনিউ করবো। এখন এড কন্টিনিউ করার জন্য ডেফিনিটলি তার মানে যেটা যেটা ভালো এটা বুঝবো কিভাবে? তো এর মানে ডেটা এনালাইসিস। আল্টিমিটলি আপনাকে ডেটা এনালাইসিসে আসতে হবে, সেটা ফেসবুকের এড হোক, গুগলের এড হোক, ইভেন আপনার ওয়েবসাইটের ট্রাফিকের উপর যেটা গুগল এনালেটিকসে দেখবো সেটাও ডাটা এনালাইসিস। ডাটা এনালাইসিসের উপর আমাদের কিছু ফার্দার স্টেপ নিতে হয়। আমাদের ডিসিশন মেকিং-এও হেল্প করে ডাটা এনালাইসিসটা।

এড স্কিলিং করার আগে কিছু টার্ম জানা দরকার। দেফিনিটলি আগে টার্মগুলো শিখতে হবে। এই টার্মগুলো যে ইউজ হচ্ছে, এই টার্মগুলো যদি ভালো কাজ করে, তাহলে আমার এডগুলো ভালো পারফর্ম করবে। একটা কম্পলিটেড এড অথবা এমনো হতে পারে যে আপনি একটা এড ৩দিন ৪দিন ধরে এডটা দেখছেন, কিন্তু ভালো পারফর্ম করছে না। সর্ট টাইম কোনো এড ভালো পারফর্ম দিবে না এটা স্বাভাবিক, যদি সেটা গোল কনভারশন হয় তাহলে খুব দ্রুত রেজাল্ট পাওয়ার চান্স খুব কম-এটা মাথায় রাখতে হবে। তবে হ্যা, যদি আপনার গোল হয় ভিডিও এর জন্য ভিউ কাউন্ট করানো, যে আমি ভিডিও-র ভিউ নিয়ে আসবো, তাহলে সেটা ডিফারেন্ট কেস। ভিডিও ভিউ আপনি এখনি এড ছাড়বেন,এখনি ভিডিও ভিউ আসা স্টার্ট করবে। আপনার যদি গোল হয় যে, আপনি আপনার পেইজে লাইক বাড়াতে চান, তাহলে ইন্সটেন্টলি লাইক আসা শুরু করবে। কিন্তু প্রথমদিকে এডের কস্টিংটা একটু বেশী থাকে। ধরেন আমি যদি এখন একটা এড ছাড়ি পেইজ লাইকের জন্য, তাহলে প্রতি লাইকের কস্ট ২-৩টাকাও পড়তে পারে। কিন্তু এডটা যদি আপনি লঙ্গার টাইমের জন্য চালান, লং টাইম বলতে মিনিমাম ১০-১৫দিন, প্রথম ২-৩ দিন এডটা অপ্টিমাইজ হবে নিজে নিজেই, এখন নিজে নিজে তো আর অপ্টিমাইজ হতে পারে না। আসলে ব্যাপারটা হচ্ছে, ফেসবুক কিছু এলগরিদম সেট করে রেখেছে, যেটার উপর বেস করে এডের একটা স্কোর আসে, যার উপর বেস করে রেজাল্ট/কস্টিংটা চলে আসে।

এড ভালো পারফর্ম করলো কিনা খারাপ পারফর্ম করলো সেটা আসলে জাস্টিফায় করে কিভাবে?

এখন আমার অব্জেক্টিভটা যদি হয় পেইজ লাইক, তাহলে যত কম খরচে যত বেশী লাইক আনা যায়। আমার টার্গেট আমি ১০০টাকায় ৩০০লাইক নিয়ে আসবো, এর মানে আমি ১টাকায় ৩টা লাইক পাচ্ছি। আবার যদি চিন্তা করি যে আমি ১০০টাকায় ২০০০/৫০০০ লোকের কাছে রিচ চাই, তাহলে এটা আমার গোল হতে পারে। এখন আমি যে গোলটা সেট করতেছি সেটা আদৌ ফিলাপ হবে কিনা। তার আগে কিছু কস্টিং এর হিসাব কিন্তু করতে হয়। একটা মিডিয়া বায়িং এর প্ল্যান করতে হয়। এর মানে কস্টিং এর হিসাব আছে।

আমি কস্টিং দিলাম ক্লায়েন্টকে প্রতি লাইক ১টাকা করে অথবা দেড় টাকা করে পড়বে, তো দেফিনিটলি এটা বেশী পড়ে গেছে। আপনি এতে বাজেট ফেইল করবেন এবং আপনার ক্ল্যেন্ট চলেও যেতে পারে ইভেন আপনার পকেট থেকেও টাকা যেতে পারে। তো প্ল্যানিংটা খুব বেশী ইম্পরটেন্ট। প্ল্যানিংটা আস্তেছে আল্টিমেটলি ডাটা এনালাইসিসের উপরে। আর ডাটা এনালাইসিস কিন্তু আপনি ঐ ১-২টা campaign-দিয়ে জাস্টিফায় করতে পারবেন না। এক একটা ব্রান্ড একেকভাবে বিহেইভ করে। ইভেন এগুলো টার্গেটিং তারপর ক্যাটাগরির উপর ডিপেন্ড করে যে কি টাইপের ডেটা নিয়ে কাজ করতেছি। তো অনেকগুলো বিষয়ের উপর ডিপেন্ড করে।

মিডিয়া বায়িং এর প্ল্যানিংটা অলমোস্ট সেম না হলেও আপনি কাজ করতে করতে ২-৩মাস পর যদি আপনি খুব ভালো ডেটা রিসার্চ করতে পারেন, তাহলে আপনি একটা ভালো প্ল্যানিং করতে পারবেন। এড দিতে দিতে, বেশী বেশী এনালাইজ করতে করতে এবং ডাটা এনালাইসিসের পাশাপাশি কনফডেন্সটা চলে আসবে। তার আগে বেশী বেশী এড দিতে হবে, তবে প্রথমদিকে এক্সপেক্টেড রেজাল্ট আসবে না কিন্তু ঐ এডের স্টিলিংটা নিজেকে শিখতে হবে। তো এডের এই স্টিলিংটাই হবে ডেটা এনালাইসিস।

কিছু টার্ম আগে শিখি-

রিচঃ-

        প্রথমেই আগে রিচ নিয়ে যদি কথা বলি। এটা মিডিয়া বায়িং-এর একটা কমন টার্ম, শুধু মিডিয়া বায়িং না, ওয়েব এনালাইটিক্স অথবা ডিজিটাল মার্কেটিং এর রিপোর্টিং-তাহলে মোটামুটি এই টার্মগুলোই ইউজ হবে। রিচ মানে হচ্ছে ইউনিক ভিউ। ইউনিক ভিউ বলতে বোঝানো হচ্ছে যে, আমি যখন কোনো একটা এড রান করবো সেই এডটা আপনার কাছে গেছে এবং আপনি সেই এডটা দেখতে পেয়েছেন অথবা দেখতেও পান নি এনিহাউ আপনার স্ক্রিনে চলে আসছে। হয়তো আপনি খেয়াল করেন নি কিন্তু স্ক্রিনের মধ্যে চলে আসছে-তখন সেটাকেই বলা হবে রিচ এবং সেটা ইউনিক রিচ।

ইম্প্রেশনঃ-

              ইম্প্রেশন্টা হলো সহজ ভাষায় আপনি এডটা হয়তো মাল্টিপল টাইম দেখছেন, তাহলে এখানে ব্যক্তি একজনই কিন্তু মাল্টিপল টাইম হতে পারে। অথবা বিভিন্ন ডিভাইস থকেও ভিউ হতে পারে। এমনও হতে পারে আপনি এডটা ডেস্কটপ থেকেও দেখতেছেন আবার মোবাইল থেকেও দেখতেছেন, আবার কখনো ট্যাব থেকেও দেখতেছেন। তো এখানে রিচ একজনই, কিন্তু ইনপ্রেশনটা ডিফারেন্ট। তার মানে ১জন ব্যাক্তি থেকেই আমি ৩টা ইম্প্রেশন পাচ্ছি। আপনি কোনোরকম ইনটারেকশন দিচ্ছেন না, তবুও যেহেতু এটা ভিউ হলো এবং আপনি এটা খেয়ালও করেন নি কিন্তু এটা আপনার স্ক্রিনে আসলো-তখন এটাকে ইম্প্রেশন বলা হচ্ছে।

ফ্রিকুয়েন্সিঃ-

এভারেজ ভ্যালু = ইম্প্রেশন/রিচ

তো এটাকেই বলে ফ্রিকুয়েন্সি। তার মানে আমার এড এভারেজে কতজন দেখছে সেটা আমি জানতে চাই।

সিপিএমঃ-

              এটাকে কস্ট পার ইমপ্রেশন বলে। কিন্তু টোটাল সিপিএম-টাকে ১০০০-এ কনভার্ট করতে হয়। এটার নামই হচ্ছে কস্ট পার ১০০০ইমপ্রেশন/ কস্ট পার মিলি। এটা বোঝাচ্ছে যে ১০০০ ভিউতে কত টাকা খরচ হয়েছে।

রেজাল্টঃ-

             অ্যাাকচুয়ালি রেজাল্ট মানে হচ্ছে আমি যে অব্জেক্টিভ সিলেক্ট করে এডটা প্লেস করছি সেটাই হচ্ছে রেজাল্ট। এখন কথা হচ্ছে আমার অব্জেক্টিভ কি ছিল? অব্জেক্টিভ যদি আমার হতো শুধু রিচ ক্যাম্পেইনের, যদি আমার টার্গেট হতো রিচ করবে শুধু পিপলের কাছে, এজ মেনি এজ পিপল, তাহলে ওটাই হতো আমার রেজাল্ট। তার মানে রিচ আর রেজাল্টের ডাটা সেম হতো।

পোস্ট এংগেজম্যান্টঃ-

                               পেইজে একটা পোস্ট দিলাম, সেই পোস্টটার লাইক, কমেন্ট, শেয়ার, রিয়েকশন, ইভেন ঐ পোস্টে কেউ একজন ক্লিক করছে অথবা ফটোজ ক্লিক করে জুম করে দেখছে- যেকোনো টাইপের এক্টিভিটিকেই বলা হচ্ছে পোস্ট এংগেজম্যান্টের রেজাল্ট।

এখন কথা হচ্ছে ভালো টার্গেটিং মানে কি?

ভালো টার্গেটিং মানে হচ্ছে আমি কত টার্গেটেড পিপলের কাছে এডটা পাঠাতে পারতেছি। ধরেন, আমার এডটা হচ্ছে আমি এংগেজম্যান্ট রিং সেল করবো। আমি যদি এংগেজম্যান্ট রিং সেল করতে চাই, তাহলে আমার এডটা কাদের কাছে পাঠানো লাগবে? ডেফিনিটলি এই রিলিভেন্ট ইভেন্ট আছে রিসেন্টলি অথবা যাদের ইন্টারেস্ট থাকে, ডেফিনিটলি তাদের কাছে এডটা পৌছাতে হবে। তো ওটাও কিন্তু আমার টার্গেরিং-এর মধ্যে পড়ে। আরেকটা বিষয় হচ্ছে আমার যখন এংগেজম্যান্ট আসবে, তখন আমার কস্টিংটা বেড়ে যাবে। তো নিঃসন্দেহে এখানে কস্টের সাথে রেজাল্টের সম্পর্ক। রেজাল্ট কম আসা মানে আপনার টার্গেটিংটা ভালো হয়নি। তার মানে যত ভালো টার্গেট করতে পারবেন, তত ভালো রেজাল্ট আসার সম্ভাবনা বেশী। আর এই কস্টিংটা ক্যাম্পেইন-টু-ক্যাম্পেইন ভ্যারি করবে, অব্জেক্ট-টু-অব্জেক্ট ভ্যারি করবে।

ক্লিকঃ-

        ক্লিকটা নিয়ে তখনই কথা বলা হয় যখন এটা ট্রাফিক এডের জন্য হয়।

সিটিআরঃ-

             ক্লিক থ্রু রেট বলা হয়। ক্লিকের মাধ্যমে যে রেজাল্টটা আসে।

সিটিআর = ক্লিক/ইম্প্রেশন(%)

সিপিসিঃ-

           কস্ট পার ক্লিক বলা হয়। মানে প্রতি ক্লিকের জন্য কত টাকা খরচ হয়েছে।

২সেকেন্ডস ভিউঃ-

                        মানে ২ সেকেন্ডস ভিউ-এর জন্য কত টাকা খরচ হয়েছে।

থ্রুপ্লেঃ-

          এটা এডের একটা বিডিং প্রসিডিউর। যখন কোনো ভিডিও সম্পূর্ন দেখা হয়, এটলিস্ট ১৫সেকেন্ডস। ১৫ সেকেন্ড-এর ভিডিওটি পুরো দেখলে ফেসবুক আপনার থেকে টাকা কাটবে, আর যদি ১৫ সেকেন্ডের কম দেখেন, তাহলে ফেসবুক আপনার কাছে টাকা কাটবে না।

ব্রেকডাউনঃ-

                এটা হচ্ছে এক্সিস্টিং ক্যাম্পেইন, যে ক্যাম্পেইন ১০-২০ দিনের জন্য চলবে, ডেইলি আপনি আপনার ক্যাম্পেইনটা চেক করতেছেন যে আপনার এডটা কোথায় যাচ্ছে, কোন পিপলের কাছে যাচ্ছে- এই বিষয়গুলো চেক করা। যেটা ভালো পারফর্ম করছে না দরকার হলে সেটা বন্ধ করে দিবো। 

যখন কোনো এড গুগল এখানে দেখাবে এবোভ এভারেজ, তখন ঐ এডটা ৮০% এর বেশী ডেটা খুব ভালো পারফর্ম করতেছে। আর এভারেজ ৫২% এর মধ্যে একটা রেঞ্জ দেয়। তারপর বিলো এভারেজ যেটা ৩৫% এর নিচে ডেটা দেয়। তারপর ২০% এর নিচে, আবার ১০% এর নিচে-এভাবে ডেটা কমতে থাকে। যখন দেখবেন আপনার এড বিলো এভারেজের নিচে, এখন আপনাকে বুঝতে হবে যে আপনার এডের কোয়ালিটি ভালো না। এডের কোয়ালিটি ভালো না বলতে আসলে কি বোঝানো হচ্ছে? তার মানে আপনার টার্গেটিংটা ভালো হয়নি, আবার কখনো যদি মনে হয় যে, এংগেজম্যান্ট রেটটা আপনার খারাপ আসতেছে, তাহলে বুঝতে হবে এডের ক্রিয়েটিভগুলো ভালো না। আর কনভারশন মানে ফাইনাল কোনো গোল ফিলাপ হচ্ছে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published.